দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীর গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিসিএস গলির শেষ মাথার ফজিলা মেস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সিনথিয়া রহমান (২২) গাজীপুর থেকে দিনাজপুরে পড়তে এসেছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে মেসে আলোচনা সভা ছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলোচনা শেষে সবাই নিজ নিজ কক্ষে চলে যান। পরদিন সকাল ১১টার দিকে আবারও আলোচনার জন্য সিনথিয়াকে ডাকতে গেলে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি ঘুমিয়ে আছেন মনে করে তখন আর তাকে ডাকেননি অন্যরা। পরে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা শেষে দুপুরে যে যার মতো কাজে চলে যান।
বিকেল ৬টার দিকে সিনথিয়ার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় সহপাঠীসহ অন্যরা তাকে ডাকাডাকি করেন। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা মেস কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে হাতুড়ি দিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সিনথিয়ার মরদেহ দেখতে পান তারা।
বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরনবী ও দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে নারী পুলিশ সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল করে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। সিনথিয়ার সহপাঠীসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তদারকি করা হয়েছে। আপাতত মরদেহ মর্গে থাকবে। পরিবারের সদস্যরা এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
এদিকে এ ঘটনায় সিনথিয়ার সহপাঠী, অন্যান্য শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং শাখা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
কেকে/সাশ