কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের ব্রাহ্মণপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পুকুরের উপচে পড়া পানি, পচা কচুরিপানা ও বাজারের ফেলে দেওয়া ময়লার স্তূপে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পথ এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাঁটুপানির সঙ্গে কাদা ও দুর্গন্ধ পেরিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিকল্প পথে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরের পানি উপচে ব্রাহ্মণপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে হাঁটুপানি জমে আছে। পানির সঙ্গে পচা কচুরিপানা ও ময়লার স্তূপ জমে থাকায় মূল প্রবেশপথ দিয়ে চলাচল প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে কিংবা অভিভাবকের সহায়তায় কাদা-পানি মাড়িয়ে বিকল্প পথে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারীদেরও একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন পানি ও ময়লার স্তূপ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে তাদের অনেক কষ্ট হয়। এতে কাপড় ভিজে যায় এবং বই-খাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ময়লা-কচুরিপানা অপসারণ করে স্বাভাবিক যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানায় তারা।
অভিভাবকেরা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে হাঁটুপানি, পচা কচুরিপানা ও ময়লার স্তূপ থাকায় ছোট শিশুদের একা বিদ্যালয়ে পাঠানো নিরাপদ নয়। অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও সমস্যায় পড়ছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ময়লা অপসারণের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তারা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফরোজা রহমা লাকী বলেন, ‘পানি জমে থাকা এবং পচা কচুরিপানা ও ময়লার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে পাঠদান পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং পচা কচুরিপানা ও ময়লার স্তূপ অপসারণের ব্যবস্থা করবেন বলে আশা করছি। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে এবং পাঠদান স্বাভাবিক হবে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হুমায়ূন কবির বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার স্বার্থে দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ময়লা অপসারণ এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে পানি জমে যায়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেকে/এআই