বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬,
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ      ● ডেঙ্গু সচেতনতায় পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ● জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরল বাংলাদেশ, আফগানদের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ      ● হাম-ডেঙ্গুর বিষাক্ত ছোবল, এক দিনে ১৫ মৃত্যু      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৯৫৪      ● হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২১৩      ● বিশ্বব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে : অর্থমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্রের জাল আওয়ামী লীগের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অনেকে আত্মগোপনে আছেন। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কারা ভোগ করছেন। তাছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে সহিংসতার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার প্রক্রিয়াধীন। ভারতে অবস্থানরত দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে ইতোমধ্যে সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

দলটির যে কোনো ধরনের কার্যক্রম ও প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতেও আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে বসে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারের চেষ্টা করছে। দলটির  নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এ সংক্রান্ত নানান অপতৎপরতা সামনে আসছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও সরকারের তরফ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক দুইজন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে অর্থায়নের মাধ্যমে তারা নানা ষড়যন্ত্র করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। 

এদিকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করা হয়েছে। এ ঘটনাকে বাংলাদেশ সরকার ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্পচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন লোক। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ইউ আর আ টেরোরিস্ট’ এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলে চিৎকার করছিলেন। 

এছাড়া, বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। পরে সঙ্গে থাকা সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যায় ড. ইউনূস। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্পচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, (জুলাই) আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ঘটনাকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে।’ 

জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এর আগে হেনস্তার শিকার অভিনেত্রীর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। 

এ ঘটনায় বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। 

সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার 

বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে অর্থায়নের মাধ্যমে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালানোর’ অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩) এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ (৪৭)। 

গত রোববার রাতে ঢাকার পল্লবী ও বনানী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছর ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের যে ‘গোপন বৈঠক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটির সঙ্গেও গ্রেপ্তার সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র। গত বছরের জুলাই মাসের ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর মেজর মো. সাদিকুল হককে চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় আনা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

গত সোমবার এক বিবৃতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ওই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন এবং ‘বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র’ করছিলেন। এরই অংশ হিসেবে, গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা সহযোগীদের সঙ্গে মিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নানান ‘সরকারবিরোধী প্রচারণা, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার’ করছিলেন। এসব কাজে জড়িত থাকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনায় ‘অবৈধভাবে অর্থায়ন’ করারও অভিযোগ রয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নাশকতার পরিকল্পনা

বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থানে ‘নাশকতার পরিকল্পনা হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। গত সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, ‘চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। অবসরপ্রাপ্ত যে দুজন সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা নানান নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।’ 

গ্রেপ্তার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, র-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে উঠে এসেছে, পতিত স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর পক্ষে তারা কিভাবে তহবিল সংগ্রহ করছিলেন এবং গোপন হামলার ছক কষছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়া একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের একজন। আজিজের হয়ে বিজিবিতে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের একটি চক্র পরিচালনা করতেন দেবাশীষ ও তার পিতা দয়াল চন্দ্র পাল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেবাশীষ কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সাবেক ও কর্মরত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।  সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক পাওয়ার জেল দেশে আনার ঘটনায় দেবাশীষের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 

গ্রেপ্তার হওয়া অপরজন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা ২০০৬ সালে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভারতীয় হ্যান্ডলার ও দেবাশীষের সঙ্গে মিলে তিনি দেশব্যাপী সংঘবদ্ধ নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। ঢাকায় ‘র’-এর সাবেক স্টেশন চিফ রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রীর ঘনিষ্ঠ গুলশান আরা তার নির্দেশে অন্তত আটজন সেনা কর্মকর্তাকে হানিট্র্যাপে ফেলেন। তিনি সহজেই সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতেন। সম্প্রতি তিনি বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের কার্যালয়ে মিনিস্টার (কনস্যুলার ও শিক্ষা) সুভাষ রামকৃষ্ণন পিল্লাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। 

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ষড়যন্ত্র   আওয়ামী লীগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close