মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● মিরপুরে ফের শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন      ● গাজীপুরে ফের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ      ● ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন      ● ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা      ● ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৩৩      ● জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর জোর রাষ্ট্রপতির      ● হাম উপসর্গে আরও ৩ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৪৮      
খোলাকাগজ স্পেশাল
আতঙ্কের জনপদ খুলনা, থামছেই না হত্যাকাণ্ড
ইমামুল ইসলাম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ পিএম আপডেট: ০৩.১১.২০২৬ ১:১৯ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং প্রতিনয়িত গুলিবর্ষণ পুরো জনপদকে অপরাধের অভয়াবণ্যে পরিণত করেছে। এ জনপদে যেন সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করছে। কখনো প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, কখনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন বা জখম, আবার কখনো গুলিবর্ষণের চিত্র উঠে আসছে।

গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) খুলনার রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদী থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগের দিন নগরীতে সৈয়দ হুমায়ুন কবির নামের তাঁতিদলের এক নেতা এবং গত শনিবার শহীদুল (৩৫) নামে এক যুবকে হত্যা করা হয়েছে। চলতি বছরের ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় ৭৫ জন খুন হয়েছেন। নগর নগরে এখনো অন্তত ৩০০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নদী থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার

রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদী থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপসা সরকারি কলেজের বিপরীতে সিংহের চর এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, দুজনকে গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

নিহত দুজন হলেন মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫) ও রেজাউল করিম ওরফে আলামিন (৩০)। পুলিশের ভাষ্য, তারা খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বি কোম্পানির সদস্য ছিলেন। সোহাগের চোখের পাশে এবং আলামিনের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

সোহাগের বাড়ি রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আব্দুল্লাহ। স্থানীয়রা জানান, আব্দুল্লাহ একসময় জেলখানা ঘাটে মাঝি হিসেবে কাজ করতেন। পরে সোহাগ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বি কোম্পানির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আলামিনের বাবার নাম ও বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, দুটি লাশের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। গুলি করে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এর আগে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরের লবণচরা থানার কাশেমিয়া জামে মসজিদ সড়কে শহীদুল ইসলাম কলিন (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন গত রোববার সন্ধ্যায় নগরের রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে সৈয়দ হুমায়ুন কবির নামের এক তাঁতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সিদ্দিক শেখ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে গতকাল সোমবার নদী থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় ৭৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গত ২৭ অক্টোবর নগরের নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে সালমান (২৩) নামের এক যুবককে গুলি করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহত সালমানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সালমান নগরের ১৬ নম্বর সড়কের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি ক্যামেল সিগারেট কোম্পানির কর্মচারী।

গত ২৪ অক্টোবর নগরীর সন্ধানী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর কমার্স কলেজের বিপরীতে ক্লিনিকের নিজস্ব ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ক্লিনিকের বাইরে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। ঘটনায় ক্লিনিকের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এক কর্মীর মোবাইল ফোন।

গত ২৪ অক্টোবর সকালে যুবদল নেতাকে, সন্ধ্যায় দোকানের ভেতরে ঢুকে এক মুদি দোকানদারকে গুলি করার ঘটনার ঘটেছে।
একই সন্ধ্যায় নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা এলাকায় ধনঞ্জয় কুণ্ড ওরফে আকাশ কুণ্ডু (৪৫) নামের এক মুদিদোকানিকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। নিজের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে সকালে খুলনার তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রামিম বিশ্বাস (৩২) নামের যুবদলের এক নেতা আহত হন।

এর আগে সকালে তেরখাদা উপজেলার পারহাজীগ্রামে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রামিম বিশ্বাস নামে যুবদলের এক নেতা আহত হন। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রামিম বিশ্বাস তেরখাদা উপজেলার ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।

১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় ৭৫ খুন

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় ৭৫ জন খুন হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধ কাজ করেছে।

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে 

খুলনার অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অনুমান, নগরে এখনো অন্তত ৩০০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। 

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক-সম্পর্কিত বিরোধ রয়েছে। পুলিশ তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে।

কিন্তু তাদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সাধারণ মানুষও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না। এটিও বড় সমস্যা।


কেকে/সাশ 




আরও সংবাদ   বিষয়:  খুলনা   হত্যাকাণ্ড  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close