শরীয়তপুরের ডামুড্যায় পৃথক অভিযানে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও চুরির মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া প্রায় ১১ লাখ টাকা মূল্যের ৫ ভরি ৩ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যা মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরিও জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ডামুড্যা থানা পুলিশ পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
পুলিশ জানায়, হত্যা মামলার বাদী আল-আমিন মাদবরের ২১ বছর বয়সী মেয়ে লামিয়া আক্তার বৃষ্টির সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে একই এলাকার রবিউল হোসেনের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহ ও মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে রবিউল তাঁর স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। গত ২ নভেম্বর বিকেলে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে কৌশলে ভাড়া বাসায় নিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি রবিউল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চুরির মামলায় ফারজানা আক্তার লিজা (২২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাবার বাড়ি শিধলকুড়া এলাকা থেকে চুরি হওয়া ৫ ভরি ৩ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অলংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা।
পুলিশের তথ্যমতে, দক্ষিণ ডামুড্যা এলাকার বাসিন্দা সেলিনা বেগম (৫০) এ ঘটনায় মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী এক নারী তাঁর কাছে ৫ ভরি ১১ আনা স্বর্ণালংকার আমানত রাখেন। পরে নিজের ২ ভরি স্বর্ণালংকারসহ সব অলংকার আলমারিতে সংরক্ষণ করেন তিনি। গত ২৫ অক্টোবর সকালে আলমারি খুলে স্বর্ণালংকারগুলো না পেয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন সেলিনা বেগম।
এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান চালিয়ে ফারজানা আক্তার লিজাকে গ্রেপ্তার ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
ডামুড্যা থানা পুলিশ জানায়, পৃথক দুই ঘটনায় গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও গোসাইরহাট সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুল আরেফীন, ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।
কেকে/সাশ