মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
১০ দিনে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি পেল প্রতি লিটারে ১০০ টাকা
এভিয়েশন ব্যবসায় অশনী সংকেত!!!
মো. কামরুল ইসলাম
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ডামাডোলে বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি পেল গত দশ দিনে দুদফায় ১০০ টাকা। যা বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য দাড়ায় ১৯৪ টাকা ১৮ পয়সা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) গত ৮ মার্চ প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা হয় নির্ধারণ করে, ঠিক ১০ দিনের মাথায় তা আবার ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে ১৯৪ টাকা ১৮ পয়সা।

ঠিক একইভাবে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য গত দশদিনে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ০.৬২৫৭ ডলার থেকে দু’দফায় বৃদ্ধি করে ১.২৬৮৯ ডলার নির্ধারণ করে বিপিসি।

একটি এয়ারলাইন্সের যেকোনো রুটের পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যয় হয় জেট ফুয়েলে। গত ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি পায় ১০০ শতাংশ। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে এভিয়েশন ব্যবসা চরম সংকটে নিমজ্জিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত


জেট ফুয়েলের মূল্য অতীতের সকল রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির ফলে এই রেকর্ড এর পরিসমাপ্তি ঘটবে তা ভাবার কোনো কারণ নেই। রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে এভিয়েশন ব্যবসায় অশনীসংকেত দেখা যাচ্ছে। এয়ারলাইন্সকে টিকে থাকতে হলে কিংবা এভিয়েশন ব্যবসায়কে টিকিয়ে রাখতে হলে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের বিভিন্ন রুটে ভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া কোনো গতান্তর থাকবে না। ভাড়া বৃদ্ধি করলেই এ থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব—তা কিন্তু নয়। ভাড়া বৃদ্ধির ফলে প্যাসেঞ্জার গ্রোথ হ্রাস পাবে—এটাই স্বাভাবিক।    

জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন এক চাপের বাস্তবতা তৈরি করেছে। জ্বালানি ব্যয় যেখানে একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন খরচের বড় অংশ—সেখানে এই হঠাৎ বৃদ্ধি পুরো শিল্পকে অস্থির করে তুলছে। সম্প্রতি জ্বালানির দাম পুনঃনির্ধারণের ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য খরচ ব্যবস্থাপনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে যাত্রী ভাড়ার ওপর। টিকিটের দাম বাড়লে সাধারণ যাত্রীরা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হন—যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই যাত্রী সংখ্যা কমে যেতে পারে। একইসঙ্গে এয়ারলাইন্সগুলো বাধ্য হচ্ছে কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমাতে বা বন্ধ করতে। ফলে দেশের আঞ্চলিক সংযোগ এবং পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে পণ্যের দামও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। ছোট ও নতুন এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন আকার ধারণ করবে, কারণ তাদের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত।

এই বাস্তবতায় নীতিনির্ধারকদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ। জ্বালানির বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় রাখা যেমন প্রয়োজন, তেমনি এভিয়েশন খাতকে টিকিয়ে রাখতে সহায়ক নীতি প্রণয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে এয়ারলাইন্সগুলোকেও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, রুট পরিকল্পনায় কৌশলগত পরিবর্তন এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আরও মনোযোগী হতে হবে।

সব মিলিয়ে, জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্য শুধু একটি খাতের সমস্যা নয়—এটি একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতা, যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ।

বর্তমানের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হলো ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত প্ল্যাটস রেট ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৭.১৯ ডলার—যা ৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১৭৮.৯৮ ডলারে।

জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্য পুরো এভিয়েশন শিল্পের উপর চাপ সৃষ্টি করে—যেখানে এয়ারলাইন্স, যাত্রী এবং সামগ্রিক অর্থনীতি সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হয়।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ঢাকাপোস্ট ডট কম

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  এভিয়েশন ব্যবসা   অশনী সংকেত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close