রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প সরকারের      প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি      সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ মির্জা ফখরুলের      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
বিদ্যুৎ খাতের টেকসই সংস্কার ও জ্বালানি নিরাপত্তা
শফিকুল হক
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুতের সঙ্গে যেন আবারও এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার মধ্যে ফিরে গেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, উৎপাদনক্ষমতাও কম নয়, কিন্তু প্রয়োজনের সময়ে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নেই। গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও কয়েক ঘণ্টা পরপর, কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে। রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে, শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, ছোট ব্যবসা থেমে যাচ্ছে, কারখানায় উৎপাদন কমছে। কৃষক সেচ নিয়ে বিপাকে পড়ছেন। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের ধৈর্য ফুরিয়ে যাচ্ছে। এটি শুধু বিদ্যুতের সংকট নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় সেবার ওপর আস্থার সংকটও।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং কয়েক হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ১৩ আগস্ট রয়টার্স জানিয়েছে, গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকারকে আরও কঠোর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। বাংলাদেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা যদি প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হয়, তাহলে এত লোডশেডিং কেন? সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুনে দেশের স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের ক্ষমতাই প্রায় ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক প্রায় ৭ হাজার ৭৬৯ মেগাওয়াট। অথচ প্রয়োজনের সময় সেই ক্ষমতার একটি বড় অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

এখানেই আমাদের বিদ্যুৎ সমস্যার আসল জায়গাটি। সমস্যা শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা নয়। সমস্যা হলো—যে কেন্দ্রগুলো আছে, সেগুলো কতটা চালানো যাচ্ছে; পর্যাপ্ত গ্যাস, এলএনজি বা কয়লা আছে কি না; কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কি না; উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঠিকভাবে সঞ্চালন ও বিতরণ করা যাচ্ছে কি না। অর্থাৎ আমাদের দরকার শুধু আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং আরও ভালো ব্যবস্থাপনা।

এ মুহূর্তে সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আছে, সেগুলো কেন পূর্ণ ক্ষমতায় চলছে না—তার উত্তর খোঁজা। প্রতিটি কেন্দ্রের অবস্থা প্রতিদিন পর্যালোচনা করা যেতে পারে। কোনটি জ্বালানির অভাবে কম উৎপাদন করছে, কোনটি মেরামতের জন্য বন্ধ, কোনটির কাছে কয়লা নেই, কোনটি অর্থের কারণে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না—এসব তথ্য এক জায়গায় এনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু একটি বিদ্যমান কেন্দ্রকে জ্বালানি দিয়ে চালু করা বা ছোটখাটো কারিগরি সমস্যা ঠিক করা গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই শত শত মেগাওয়াট ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অর্থাৎ এখন আমাদের নীতি হওয়া উচিত—আগে যা আছে, তার পুরোটা ব্যবহার করি।

এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্যাসের সমস্যা। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার প্রভাব পড়ে। এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ বা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সমস্যা হলে তার প্রভাব কত দ্রুত জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এলএনজি সরবরাহের সমস্যার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লোডশেডিংয়ের সম্পর্ক স্পষ্ট হয়েছে।

তাই বিদ্যুৎ নীতি আর গ্যাস নীতিকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। বিদ্যুৎ নিরাপত্তার অর্থ এখন জ্বালানি নিরাপত্তাও। বাংলাদেশের উচিত গ্যাস, এলএনজি ও কয়লার জন্য একটি বাস্তবসম্মত জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় কয়লা বা তরল জ্বালানির ন্যূনতম মজুত কত থাকবে, তা নির্ধারণ করা দরকার। কোনো জাহাজ দেরি করলে বা আন্তর্জাতিক বাজারে সমস্যা হলে যাতে একটি কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে না যায়, সেই বিকল্প ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

তবে সব সংকটের সমাধান হিসেবে ডিজেল বা ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করা যাবে না। এতে বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও খরচ অনেক বেড়ে যায়। সেই খরচ শেষ পর্যন্ত সরকার বা গ্রাহক—কাউকে না কাউকে বহন করতে হয়। তাই তরল জ্বালানি হতে পারে জরুরি ব্যবস্থা, স্থায়ী সমাধান নয়।

আরেকটি পরিবর্তন জরুরি—লোডশেডিংকে যেন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে সহজ সমাধান হিসেবে না দেখা হয়। বিদ্যুৎ কম থাকলে বিদ্যুৎ বন্ধ করতেই হতে পারে। কিন্তু কোথায়, কখন এবং কতক্ষণ বন্ধ হবে—এটি পরিকল্পিত হওয়া উচিত। হাসপাতাল, পানি সরবরাহ, জরুরি পরিষেবা, টেলিযোগাযোগের মতো প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কৃষি ও সেচের সময়ও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

শিল্পের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। একটি কারখানায় বিদ্যুৎ না থাকলে মালিক শুধু উৎপাদন হারান না; অনেক সময় জেনারেটর চালাতে ডিজেল কিনতে হয়। সেই অতিরিক্ত খরচ পরে পণ্যের দামে গিয়ে পড়ে। নওগাঁয় সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানা ও চালকলগুলো জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে—এটি তার একটি বাস্তব উদাহরণ। অতএব সংকটের সময়ে খাদ্য উৎপাদন, সেচ, কোল্ড স্টোরেজ, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া শুধু অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসংগত নয়, জাতীয় স্বার্থেও প্রয়োজনীয়।

তবে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কখন বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। বাংলাদেশে ধীরে ধীরে পিক-আওয়ার ও অফ-পিক-আওয়ারভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে, যাতে তারা যেসব কাজের সময় পরিবর্তন করা সম্ভব, সেগুলো কম চাহিদার সময়ে করে। এতে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে আরও বেশি কাজ করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় মানে মানুষের জীবনকে আরও কষ্টকর করা নয়; বরং কোথায় অপচয় হচ্ছে, সেটি বন্ধ করা। এর পাশাপাশি আমাদের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দিকেও তাকাতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো, কিন্তু যদি দুর্বল লাইন, পুরোনো ট্রান্সফরমার বা ওভারলোডেড সাবস্টেশনের কারণে তা ঠিকমতো পৌঁছাতে না পারে, তাহলে গ্রাহকের কাছে সেই উৎপাদনক্ষমতার কোনো মূল্য নেই। এখানে স্মার্ট মিটার, স্বয়ংক্রিয় মিটার রিডিং, ডিজিটাল গ্রিড ম্যানেজমেন্ট এবং দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণের মতো ব্যবস্থা অনেক পরিবর্তন আনতে পারে।

কিন্তু বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের বর্তমান ক্ষোভের একটি দিক আরও আছে, যেটি উপেক্ষা করা ঠিক হবে না—বিদ্যুৎ বিল। একজন মানুষ যদি মাসের অনেক দিন বিদ্যুৎ না পান, অথচ মাস শেষে তার হাতে এমন একটি বিল আসে, যা তার স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি, তাহলে তার ক্ষোভ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, মিটার ঠিকভাবে না দেখে আনুমানিক রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল তৈরি হচ্ছে। কোথাও হঠাৎ অস্বাভাবিক ইউনিট দেখানো হচ্ছে, কোথাও আগের মাসের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল আসছে। বিপিডিবির তথ্যেও আনুমানিক বিলিং এবং মিটার রিডিংয়ের মানবিক ভুলের সম্ভাবনার কথা স্বীকার করা হয়েছে।

২০২৬ সালে সংসদে জানানো হয়েছে, অনেক এলাকায় মিটার রিডিংয়ের ছবি তুলে তা যাচাই করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রিপেইড মিটারিং আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ রয়েছে। এখানে খুব সহজ একটি ব্যবস্থা করা যায়। প্রতিটি বিলে আগের মিটার রিডিং, বর্তমান রিডিং, মোট ইউনিট, ট্যারিফ স্ল্যাব, ভ্যাট এবং অন্য সব চার্জ পরিষ্কারভাবে দেখানো হোক। যদি প্রকৃত রিডিং না নিয়ে আনুমানিক রিডিং করা হয়, সেটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হোক।

আর কোনো পরিবারের গত এক বছরের ব্যবহার যদি মোটামুটি একই থাকে, হঠাৎ এক মাসে কয়েক গুণ বেশি ইউনিট দেখালে কম্পিউটার সিস্টেম যেন সেটিকে আগে থেকেই সতর্ক সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করে। আজকের প্রযুক্তিতে এটি করা কঠিন নয়। বরং গ্রাহক অভিযোগ করার আগেই অস্বাভাবিক বিল পরীক্ষা করা উচিত। এটিই হবে প্রকৃত গ্রাহকসেবা।

ভুল বিলের অভিযোগ করার জন্যও মানুষকে অফিসে অফিসে ঘুরতে হওয়া উচিত নয়। মোবাইল ফোন বা অনলাইনে অভিযোগ করা যাবে, একটি ট্র্যাকিং নম্বর দেওয়া হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে হবে। বিপিডিবির সিটিজেন চার্টারে ইতোমধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং ২৪/৭ কল সেন্টারের ব্যবস্থা রয়েছে। এখন প্রয়োজন এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা।

কারণ মানুষের অসন্তোষের জায়গাটি খুব সহজে বোঝা যায়—বিদ্যুৎ নেই, কিন্তু বিল আছে। সেবা অনিয়মিত, কিন্তু খরচ নিয়মিত। অভিযোগ আছে, কিন্তু সমাধান পেতে হয়রানি আছে। এ অনুভূতি যখন তৈরি হয়, তখন বিদ্যুৎ সংকট আর শুধু একটি কারিগরি সমস্যা থাকে না। এটি সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহকসেবাকে আর গৌণ বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।

দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকেও অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা ব্যাপক। বড় কারখানা, গুদাম, শপিং মল, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করলে দিনের বেলায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো সম্ভব। নেট মিটারিংয়ের জন্য নতুন নির্দেশিকাও রয়েছে। কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানির বর্তমান অংশ এখনো খুবই ছোট। সিপিডির হিসাবে, ২০২৬ সালে নবায়নযোগ্য ক্ষমতা ছিল মাত্র ১ হাজার ৬৯ মেগাওয়াট।

সবশেষে দরকার সমন্বয়। গ্যাস একদিকে, বিদ্যুৎ অন্যদিকে, এলএনজি তৃতীয়দিকে এবং সঞ্চালন আরেকদিকে—এভাবে আলাদা আলাদা করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। একটি জাতীয় বিদ্যুৎ নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন করে প্রতিদিনের পরিস্থিতি এক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। কত চাহিদা, কত উৎপাদন, কত ঘাটতি, কোন কেন্দ্র বন্ধ, কত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কী হতে পারে—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে জনগণের আস্থাও বাড়বে।

বাংলাদেশের সামনে এখন মূলত তিনটি কাজ। প্রথমত, আগামী কয়েক মাসে বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে যতটা সম্ভব পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে এবং গ্যাস, এলএনজি ও কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আগামী কয়েক বছরে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্মার্ট মিটারিং, সঠিক বিলিং, শক্তি দক্ষতা, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করতে হবে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে কোনো একটি জ্বালানি বা একটি অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পুরো দেশ বারবার বিদ্যুৎ সংকটে পড়ে না।

বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট তাই শুধু আরও কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবি নয়। এটি আরও ভালো ব্যবস্থাপনার দাবি। এটি জ্বালানি নিরাপত্তার দাবি। এটি সঠিক বিলের দাবি। সর্বোপরি, এটি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি।

সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা বোঝা। একজন নাগরিকের কাছে বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য কোনো পরিসংখ্যান নয়। তার কাছে সাফল্য হলো—রাতে ঘুমের সময় বিদ্যুৎ আছে কি না, সন্তানের পড়ার সময় আলো আছে কি না, দোকানের ফ্রিজ চলছে কি না, সেচের সময় পাম্প চলছে কি না এবং মাস শেষে যে বিলটি হাতে আসে, সেটি সত্যিই তার ব্যবহারের সঙ্গে মেলে কি না।

তাই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নীতির নতুন লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু ‘আরও বিদ্যুৎ’ নয়, ‘আরও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ এবং ন্যায্য সেবা’। কারণ শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য কত মেগাওয়াট উৎপাদন হলো, শুধু তা দিয়ে মাপা উচিত নয়। মানুষ কতটা নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পেল এবং তার জন্য কতটা ন্যায্য মূল্য দিল—সেটিই হওয়া উচিত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।

লেখক: সাবেক সলিসিটর, সিনিয়র কোর্টস অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস; সাবেক মেয়র, লন্ডন বরো অব টাওয়ার হ্যামলেটস, যুক্তরাজ্য।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  জ্বালানি নিরাপত্তা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close