শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি, সমাধানে বিশ্বব্যাংকের নতুন কৌশল      ● ভারতজুড়ে পতাকা মিছিলের ডাক ককরোচ জনতা পার্টির      ● মনিরুল পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাবে ১৯ কোটি টাকা, সব ফ্রিজের আদেশ      ● হাম উপসর্গে একদিনে ৪ জনের প্রাণহানি      ● মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা      ● ডেঙ্গুতে আরও ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৪৩      ● আইএমএফের ঋণ পেতে শর্ত পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন, অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা
রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৮ এএম আপডেট: ১৬.১০.২০২৬ ১১:৪৫ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

পোশাকশিল্পের শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে রাজধানীর উত্তরায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। মজুরি বৃদ্ধি, বকেয়া বেতন পরিশোধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। একইদিনে গাজীপুরের শ্রীপুরেও বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন সি স্টেজ (বিডি) লিমিটেডের শ্রমিকরা। সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মুলাইদ গ্রামের এমসি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। উত্তরায়ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কারখানা কর্তৃপক্ষ সেপ্টেম্বরের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেনি। বৃহস্পতিবার সকালে তারা কারখানায় গিয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণার কথা জানতে পারেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিশেষ করে উত্তরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ও নিপা গার্মেন্টসের মালিক খসরু চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা জন্ম নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই উত্তরায় নিপা গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে শ্রমিক আন্দোলনের মাত্রা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরায় আরও ৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

তবে শ্রমিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও সমাধান না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

গতকাল সকাল ১০টার দিকে উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। একদল শ্রমিক সরে যেতে রাজি হলেও অন্য একটি দল পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করে বলে জানান ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার রেজাউল করিম। এরপর পুলিশ ধাওয়া দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

উত্তরায় নিপা গার্মেন্টসসহ বন্ধ হওয়া অন্য পোশাক কারখানা হলো ভার্সেটাইল ফ্যাশনস (প্রা.) লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড ও ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড। গতকাল জারি করা নোটিসে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা উল্লেখ করে নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া অন্য সব বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। 

নোটিস অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কিছু শ্রমিক কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েও কাজ না করে ধর্মঘট পালন করেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, কাজে ফেরার অনুরোধ উপেক্ষা করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও কারখানার সম্পদ ঝুঁকির মুখে পড়ে। 

নোটিসে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া অন্য বিভাগ বন্ধ থাকবে। পুনরায় চালুর তারিখ ও সময় পরে নোটিসের মাধ্যমে জানানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

শ্রমিকদের চলমান এ আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি  বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের আগেই সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আলোচনা না করে রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা মালিক ও শ্রমিক কোনো পক্ষ্যের জন্যই সুফল বয়ে আনবে না।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের আশু মজুরি বৃদ্ধি ও নতুন মজুরি কাঠামো কেন জরুরি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, অন্যান্য শিল্প খাতের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পে অতিরিক্ত হারে মজুরি বাড়ানো হলে অন্য খাতের শ্রমিকরা এ শিল্পে চলে আসতে পারেন। এতে শ্রমবাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সামগ্রিক শিল্প খাতের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

একই সেমিনারে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ বলেন, শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়ে আছে তৈরি পোশাকশিল্প। শ্রমিকেরা নিজেরা সংগঠিত হয়ে আন্দোলন না করলে সরকার কিংবা মালিকপক্ষ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বতঃসফূর্তভাবে মজুরি বাড়াবে না। 

তিনি বলেন, মালিকপক্ষ প্রায়ই শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়। কিন্তু আন্দোলন ছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়। তাই ন্যায্য মজুরি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে এগিয়ে আসতে হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  পোশাক শ্রমিক   আন্দোলন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close