উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংস্কার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা, উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সময়ে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।
গতকাল শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।
একই দিন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বার্ষিক সভার পঞ্চম দিনের প্লেনারি অধিবেশনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভাও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি, ঋণ, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বক্তব্য দেন।
ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্য
দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলে জানান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ চাপ মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিতুমীর বলেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য ৫ শতাংশ কমতে পারে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি) এ ধরনের কর্মসূচিকে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, অতীতের সরকারের সময়ে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন। আগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনে ত্রুটি থাকায় প্রকৃত দরিদ্রদের অনেকে সহায়তা পাননি। বিপরীতে, সহায়তার প্রয়োজন নেই—এমন ব্যক্তিরাও তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ব্যয় যাতে আরও না বাড়ে, সে জন্য জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ে সরকার যথাসম্ভব সংযত থাকার চেষ্টা করেছে বলে জানান তিনি। তার মতে, সরকারের লক্ষ্য শুধু দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ কমানো নয়, নতুন করে যাতে কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে না যান, তা নিশ্চিত করাও।
রাজস্ব আয় বাড়াতে সংস্কারের উদ্যোগ
রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিষয়ে আইএমএফের পরামর্শ প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও রাজস্ব আয় বাড়ানোর অঙ্গীকার রয়েছে। অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি, কর অব্যাহতি ও কর জালিয়াতির কারণে রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার টাস্কফোর্স গঠন করেছে জানিয়ে তিতুমীর বলেন, এর ফলে রাজস্ব আহরণে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩০ জুন পর্যন্ত এ প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, আমরা পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছি। কর ফাঁকি ও কর জালিয়াতি থেকে বেরিয়ে আসছি। আস্থা হয় কাজের মাধ্যমে।
অতীতের সরকার আইএমএফের কর্মসূচিতে থাকলেও কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সে সময় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বর্তমান সরকার সরকারি হিসাবের স্বচ্ছতা ও যাচাইযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আইবাসসহ সরকারি ব্যবস্থায় সংরক্ষিত তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইএমএফের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতি যে পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে, সেই বিবেচনায় সংস্থাটির প্রক্ষেপণ দেখতে হবে। তার দাবি, আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রক্ষেপণে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথাও রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ
ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলাকে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিতুমীর। তার ভাষ্য, অতীতে ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাটের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ সংকটের দায় সাধারণ মানুষ কেন বহন করবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন। তার দাবি, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের চাপ তৈরি হয়নি; বরং অনেকে নতুন করে আমানত রাখছেন।
অন্যান্য যেসব ব্যাংকে অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিষয়ে রেজল্যুশন অ্যাক্টের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমার বিষয়টিকেও ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন তিতুমীর।
উৎপাদন ও রপ্তানিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা
দারিদ্র্য হ্রাস ও ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার। তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ও এক্সপোর্ট গেটওয়ে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির ব্যয়, সারের সরবরাহ এবং কৃষি ও পরিবহন খাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, সামাজিক সুরক্ষা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং উৎপাদন ও রপ্তানিতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ পরস্পর সম্পর্কিত। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতির আশঙ্কা
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জের ব্যাপকতা তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে এসব দেশে ১২০ কোটি তরুণ কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। কিন্তু বর্তমান গতিধারা অব্যাহত থাকলে তাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হবে মাত্র ৪০ কোটি। ফলে প্রায় ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
বাঙ্গা বলেন, কর্মসংস্থান কেবল অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগের সঙ্গে জড়িত। চলমান সংঘাত, ঋণের বাড়তি বোঝা, সংকুচিত রাজস্ব এবং জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি সম্পদের পাশাপাশি বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রমে সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে বাঙ্গা জানান, প্রকল্প প্রস্তুতির গড় সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে নয় মাসে আনা হয়েছে। ফলাফলভিত্তিক অর্থায়নের অংশ মোট অর্থায়নের ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী এক দশকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগও তৈরি করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৬ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ১১২ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করেছে। নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট সংগৃহীত অর্থায়নের পরিমাণ ২৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। জলবায়ু খাতে এক বছরে ৯৬ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে। আফ্রিকার ৩০ কোটি মানুষকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের আওতায় আনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ছয় কোটি মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন। পানি নিরাপত্তা, কৃষি, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ব্যবহারিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে এআইয়ের প্রভাব, বাড়ছে ঋণের চাপ
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহে সংকট, বাণিজ্য বিঘ্ন ও উচ্চ সরকারি ঋণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব ঝুঁকি সত্ত্বেও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। তবে জ্বালানি সংকট প্রবৃদ্ধি কমানো ও মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিপরীতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধকবলিত দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতিগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে উচ্চ সুদে ঋণ পরিশোধের চাপ উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত করছে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মুদ্রানীতি বজায় রাখা এবং উচ্চ ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর রাজস্ব ঘাটতি কমানো জরুরি।
জর্জিভা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঘাটতি কমানো ও জাতীয় সঞ্চয় বাড়ানো, চীনের অভ্যন্তরীণ ভোগ বৃদ্ধি এবং ইউরোপে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন। এআই উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও তরুণদের কর্মসংস্থান, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও করব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। বিশেষ করে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।
আইএমএফের ঋণদান সক্ষমতা তুলে ধরে জর্জিভা বলেন, সংস্থাটির বর্তমান ঋণ ও আর্থিক প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ২৪০ বিলিয়ন ডলার এবং অব্যবহৃত ঋণদানের সক্ষমতা প্রায় ৭২০ বিলিয়ন ডলার। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য স্বল্প সুদের ঋণ সহায়তা অব্যাহত রাখতে দরিদ্র দেশগুলোর তহবিলে অর্থ জোগানের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি অংশীদারত্ব কাঠামো চূড়ান্ত করার উদ্যোগ এমন এক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে উন্নয়নের প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে চুক্তিতে গৃহীত অগ্রাধিকারগুলোর বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতে সংস্কারের অগ্রগতি এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানোর ওপর।
কেকে/সাশ