যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রথম সিনেট আসন হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপার। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের বেশ কয়েকটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আসনেও এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়। প্রাথমিক ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। এ নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জনমত যাচাই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের তিনটি আসনে এবং সিনেটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে নেট চারটি আসনে জয় প্রয়োজন।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের ২৪১টি এবং রিপাবলিকানদের ১৯৪টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ৫২-৪৮ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়।
এ পর্যন্ত সিনেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। জর্জিয়া থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন জন অসফ, নিউ হ্যাম্পশায়ারে জয় পেয়েছেন ক্রিস পাপাস। এ ছাড়া ডেলাওয়্যারে ক্রিস কুনস, নিউ জার্সিতে কোরি বুকার, ইলিনয়ে জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন, ম্যাসাচুসেটসে এডওয়ার্ড মার্কি এবং রোড আইল্যান্ডে জন রিড পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে ফ্লোরিডা থেকে রিপাবলিকান অ্যাশলি মুডি সিনেটর হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ভার্জিনিয়ার ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন বারাক ওবামার সাবেক উপদেষ্টা সুহাস সুব্রামানিয়াম। এ ছাড়া জর্জিয়া, ওহাইও, টেক্সাস, নিউ জার্সি, ইলিনয় ও পেনসিলভানিয়ার বিভিন্ন আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীরাও ফ্লোরিডা, কেনটাকি, ভার্জিনিয়া ও জর্জিয়ার কয়েকটি আসন ধরে রেখেছেন।
গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য এসেছে। ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড ও পেনসিলভানিয়ায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। অন্যদিকে ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড জোলিকে হারিয়ে রাজ্যটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগও বাড়বে। অন্যদিকে সিনেটে নিয়ন্ত্রণ হারালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত হতে পারে।
নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জর্জিয়ায় ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় দলটির কয়েকটি প্রচারশিবির চিন্তিত বলে জানিয়েছে সিএনএন।
এদিকে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। এবারও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা।
সূত্র: এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড
কেকে/সাশ