বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২১ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান, মুচলেকায় মুক্ত রাজীব ঘোষ      ● শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন      ● শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক      ● গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণ হবে ডিসেম্বরের মধ্যে      ● শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে ৪ ঘণ্টা এগিয়ে শুরু মজুরি বোর্ডের সভা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম আপডেট: ০৫.১১.২০২৬ ১২:৪৩ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের ষষ্ঠ দিন গতকাল বুধবারও (৪ নভেম্বর) উত্তপ্ত ছিল রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। সাভারের হেমায়েতপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) গাড়িতে আগুনও দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবিসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যদের। 

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে চলা আন্দোলন নতুন নতুন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাভারে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি গাজীপুরে ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। সাভার, গাজীপুর ও ফতুল্লায় সকাল থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বর থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপরও থামছে না আন্দোলন। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। 

পুলিশের দাবি, আন্দোলনে বহিরাগত ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর আগে মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সন্দেহে ২৮ জনকে আটকের কথা জানিয়ে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও বুধবার অভিযোগ করেছেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে একটি গোষ্ঠী সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। 

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা ও নানা ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের অ্যাকাউন্ট থেকে আন্দোলন ঘিরে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত তথ্য, রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রচারণার মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানো এবং পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই আন্দোলন শ্রমিকদের আন্দোলন নয়, শ্রমিক আন্দোলনের নামে কিছু ব্যক্তি দেশেকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং তাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নয়, এমন কিছু ব্যক্তি আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং কোথাও কোথাও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। কিছু ইন্ডাস্ট্রির মালিকও রয়েছেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তারা এর সঙ্গে জড়িত। অশান্তি সৃষ্টি করতে তাদের একটা রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তারা দেশে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।

তিনি বলেন, হয়তো কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা করছে। আর সেটা এখানে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আমরা কঠোর হাতে সেটা দমনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক সঙ্গতি, মালিকপক্ষের যুক্তি, শ্রমিকপক্ষের যুক্তি মিলে একটা যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে।

বুধবার সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত নতুন মজুরি বোর্ড ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি ঘোষণা করবে। মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণাঙ্গ আস্থা রয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য, যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবেন।

মাহদী আমিন বলেন, আগে পাঁচ বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এবার তিন বছর অন্তর নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রথম বৈঠক স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামনে দ্বিতীয় বৈঠকও দ্রুত আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই দুই মাসের মধ্যে আলোচনা শেষ করে ডিসেম্বরের ভেতরেই নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে বোর্ড জানিয়েছে।

পোশাকশিল্পের স্বার্থে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে এবং গার্মেন্টস খাতের স্বার্থ রক্ষা করতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

সাভারে মহাসড়ক অবরোধ, ওসির গাড়িতে আগুন

সাভারের হেমায়েতপুর, পদ্মার মোড় ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় সকাল থেকেই শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক দফায় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকার পদ্মার মোড় এলাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হয়েছিলেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে পুলিশ প্রতিরোধ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা সাভার মডেল থানার ওসির গাড়িতে আগুন দেন। হামলায় ওসি গুরুতর আহত হন বলে জানান পুলিশ সুপার। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া। পরিস্থিতি সামাল দিতে সকাল সাড়ে ৮টায় হেমায়েতপুর ও পদ্মার মোড় এলাকার আটটি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। আরও দুটি কারখানায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন।

হেমায়েতপুরের পাশাপাশি সাভারের উলাইল এলাকায়ও শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় আল-মুসলিমসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

সাভার ও আশুলিয়ায় উত্তেজনার মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে পৃথক ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরাপারসন মারধরের শিকার হন। তাদের মধ্যে স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি আহমাদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন ও ক্যামেরাপারসন মো. উজ্জ্বল হোসেন রয়েছেন। সাভার প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও নিউজ২৪-এর সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদা এবং তার ক্যামেরাপারসনের ওপরও হামলা হয়। তাদের ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আশুলিয়ায় জামগড়া-নিশ্চিন্তপুরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

সাভারের পাশাপাশি আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর, জামগড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায়ও শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন কারখানা থেকে শ্রমিকেরা বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নিউ এজ গার্মেন্টস সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে আশপাশের আরও পাঁচ থেকে ছয়টি কারখানা একই পথে হাঁটে। কারখানা থেকে বেরিয়ে আসা শ্রমিকেরা নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুরসহ কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক ছাড়ার আহ্বান জানালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে।

দুপুর ২টার দিকে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। 

গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সংঘর্ষ

গাজীপুরের গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকেরা অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, গাছা এলাকায় প্রায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক সড়কে নেমেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। জয়দেবপুর এলাকাতেও সকালে শ্রমিকদের অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। সালনা, রাজেন্দ্রপুর, শফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও কাশিমপুর এলাকায় উত্তেজনা ছিল।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলায় ১২ প্লাটুন বিজিবি, পাঁচ প্লাটুন আনসার ও আট প্লাটুন এসআরবি সদস্যসহ মোট ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ, শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন।

এছাড়া গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় শ্রমিক আন্দোলনে নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজার প্রস্তুতি নেয় এনসিপি। বেলা ১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 

গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম বলেন, গাজীপুর মহানগরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে গায়েবানা জানাজার উদ্দেশ্যে কিছু লোক জড়ো হয়। পরে নানা বক্তব্য দেওয়া শুরু করে। প্রথমে তাদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ জানালেও তারা সরেননি। কে কোন উদ্দেশ্য জড়ো হয়েছে তা তো জানা যায় না। তাই তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে।

ফতুল্লায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের কাঠেরপুল এলাকায় সকাল ১১টার দিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। তাদের সরিয়ে দিতে পুলিশ এগিয়ে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লায় সংঘর্ষের কারণে আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলেও নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবারও শ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছিলেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়।

মিরপুরে সতর্ক পুলিশ, শ্রমিকদের জড়ো হওয়ার চেষ্টা

রাজধানীর মিরপুরেও শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব ছিল। বুধবার সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পূরবী সিনেমা হলের গলিতে কয়েকটি পোশাক কারখানার সামনে শ্রমিকদের জড়ো হতে দেখা যায়। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা তৈরি হলেও মিরপুর-১০ গোলচত্বরে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। 

কেকে/সাশ 




আরও সংবাদ   বিষয়:  ন্যূনতম মাসিক মজুরি   আন্দোলন   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close