শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা      ● সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী      ● মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান, মুচলেকায় মুক্ত রাজীব ঘোষ      ● শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন      ● শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক      
খোলাকাগজ স্পেশাল
‘খুনের নগরী’ খুলনা
রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪০ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ধারাবাহিক লাশের মিছিলে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে খুলনা। চলতি নভেম্বর মাসের ৫ দিনেই এই নগরীতে কমপক্ষে ৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিনও জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় চায়ের দোকানে ঢুকে তরিকুল ইসলাম শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। 

চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুলনা নগর ও জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে গুলি করে হত্যা, গুলি করে আহত করা এবং সশস্ত্র হামলার একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, স্কুলছাত্রী, নারী ও পথচারীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের কথা বললেও খুনের ঘটনা কিছুতেই থামছে না।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিনেই বিএনপি নেতার ছেলেকে হত্যা 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরের দিনেই জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় চায়ের দোকানে ঢুকে তরিকুল ইসলাম শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় গফফারের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরিকুল ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম শেখের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে গফফারের চায়ের দোকানের ভেতরে অবস্থান করছিলেন তরিকুল। এ সময় দুর্বৃত্তরা দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে কারা কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্য, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ রয়েছে। 

১০ মাসে ৭৬ হত্যাকাণ্ড

খুলনা মহানগর ও জেলায় চলতি বছরের ১০ মাসে ৭৬ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ৩৯ জন এবং জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত নগর এলাকায় ৩৭টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৯ জন। এর আগে ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২২ সালে ১৯টি, ২০২৩ সালে ১৭টি, ২০২৪ সালে ২৯টি ও ২০২৫ সালে ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছিল।

রেহাই পাননি পুলিশ কর্মকর্তাও

সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে রেহাই পাননি পুলিশ কর্মকর্তাও। গত ৯ অক্টোবর পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। পুলিশের অভিযোগ, অনেক ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতে চায় না। সন্ত্রাসীরা জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও  খারাপ হচ্ছে।

আলোচনায় নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপ

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের বেশির ভাগ ঘটনায় ঘুরেফিরে ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে। তারা এতটাই বেপরোয়া যে জনবহুল এলাকাতেও প্রকাশ্যে গুলি করতে দ্বিধা করছে না। পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, খুলনায় সক্রিয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানি, শেখ পলাশের পলাশ গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ, আশিক বাহিনী, হুমায়ুন কবিরের হুমা বাহিনী, শেখ সাইদুর রহমান ওরফে শাওনের টেংকি শাওন গ্রুপ, আরমান শেখের আরমান গ্রুপ, শাকিল শেখের শাকিল গ্রুপ এবং নাসিম গ্রুপ।

পুরো খুলনা শহরেই বাবু গ্রুপের আধিপত্য রয়েছে। নূর আজিম ও আশিক গ্রুপের আধিপত্য খুলনা সদর ও লবণচরা থানা এলাকায়। শাওন গ্রুপ সক্রিয় সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুরে, আরমান গ্রুপ ও হুমা বাহিনীর আধিপত্য দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায়। আর নাসিম গ্রুপের প্রধান নাসিমুল গণিকে ৪ অক্টোবর দিঘলিয়া উপজেলায় গুলি করে হত্যা করা হয়। খুলনা সদর, লবণচরা ও হরিণটানা এলাকায় গত কয়েক মাসে গুলি ও হত্যার ঘটনা বেশি ঘটেছে। 

খুলনা জেলা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর কারও কারও বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় আধিপত্য, জমি, ঘের, বালুর ব্যবসা, পরিবহন ও ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠী প্রায়ই বিরোধে জড়ায়।

অপরাধীরা বেপরোয়া

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক-সম্পর্কিত বিরোধ রয়েছে। পুলিশ তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তাদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না। এটি বড় সমস্যা। এরপরও আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  খুনের নগরী   হত্যাকাণ্ড   খুলনা   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close