শিক্ষার্থীদের গণিতচর্চায় উৎসাহিত করা, মেধা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিভা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ১৭তম জাতীয় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াডের খুলনা আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধন হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মোহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মনিরুল আলম সরকার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগিতায় বাংলাদেশ গণিত সমিতি ও এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় ইংরেজি মাধ্যমে ১২০ মিনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০ নম্বর করে মোট ৮০ নম্বরের আটটি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রযুক্তির পাশাপাশি যৌক্তিক বিশ্লেষণী দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে গণিতচর্চার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। গণিত শুধু একাডেমিক বিষয় কিংবা ক্যালকুলাসের হাতিয়ার নয়, বরং এটি বিজ্ঞানের মৌলিক ভাষা। উন্নত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের প্রতি গভীর আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি করতে হবে।
খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রতিযোগিতাকে শুধু বিজয় অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং নিজেদের মেধা, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও চিন্তার পরিধি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আঞ্চলিক পর্বে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা আগামী ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। জাতীয় পর্যায়ের সেরা প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতায় (আইএমসি) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।
কেকে/ এসএমএন