বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● কল্যাণপুরে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪      ● বড়দিন উদযাপনে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী      ● দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে গতি আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ● হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৮২      ● মিরপুরে ফের শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন      ● গাজীপুরে ফের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ      ● ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বে শক্তিশালী হবে বিএনপি
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ এএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ১০:১৭ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

অতি সম্প্রতি ঘোষণা করা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি। নেতৃত্বে এসেছেন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন। তবে দলকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠন করে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনাই এ আহ্বায়ক কমিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। দীর্ঘদিনের গ্রুপিং, পদকেন্দ্রিক বিরোধ, কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগের মধ্যে তৃণমূলের আস্থা ফেরানোও নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা।

একই সঙ্গে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে দলের অবস্থান সুসংহত করতে হবে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আশাবাদী নতুন নেতৃত্ব। গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলার পাশাপাশি জনপ্রিয় প্রার্থী মনোনয়নের কথা জানিয়েছেন সদস্যসচিব এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে শুধু কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে উপস্থিতি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর পর্যায়ে নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়, কর্মীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা নতুন কমিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তৃণমূলের আস্থা অর্জন, বিরোধ নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষতা এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে নতুনভাবে সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যথায়, কমিটি পরিবর্তন হলেও পুরোনো সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

নতুন আহ্বায়ক কমিটিকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশাও বেশি। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারাও চান, পদধারী নেতাদের সভা-সমাবেশের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে নিয়মিত কর্মসূচি, কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। 

গ্রুপিং ভেঙে একক সাংগঠনিক কাঠামো 

ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, নতুন নেতৃত্বের সামনে প্রথম কাজ হবে বিরোধের কারণ চিহ্নিত করে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ বের করা। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের সাংগঠনিক অবস্থার মূল্যায়ন, নিয়মিত কর্মপরিকল্পনা এবং কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা। এতে কোন এলাকায় সংগঠন সক্রিয়, কোথায় নেতৃত্বের সংকট তা চিহ্নিত করা সহজ হবে।

তাদের মতে, সাংগঠনিক কার্যক্রম যেন শুধু মিছিল, সভা ও দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মী তালিকা হালনাগাদ, নিয়মিত মতবিনিময়, এলাকার নাগরিক সমস্যার তথ্য সংগ্রহ এবং সেসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মতো উদ্যোগ দলকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা

থানা পর্যায়ের একাধিক নেতকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নতুন কমিটির সাংগঠনিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হলে শুধু প্রচার-প্রচারণা নয়, আগে থেকেই ওয়ার্ডভিত্তিক জনমত, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় নিতে হবে। 

এছাড়া প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামত, এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যাতে বিরোধ বা বিদ্রোহী প্রার্থিতার পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য আগেই আলোচনা ও সমন্বয়ের ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রার্থী বাছাইয়ে স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত আনুগত্য বা আর্থিক প্রভাবের অভিযোগ উঠলে তা দলের নির্বাচনী প্রস্তুতিকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন তারা। 

ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রত্যাশা 

ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি যেন তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব কমায় এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা কর্মীদের মূল্যায়ন, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া, নিয়মিত কর্মসূচি এবং পারস্পরিক বিরোধের ন্যায়সংগত সমাধান করেন। 

তৃণমূলের একজন নেতা বলেন, ‘আমরা চাই নতুন কমিটি নিয়মিত ওয়ার্ড পর্যায়ে যোগাযোগ রাখুক। শুধু কর্মসূচির সময় ডাকলে হবে না, সাংগঠনিক সমস্যার সময়ও পাশে থাকতে হবে। যোগ্যতা ও কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হলে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ বাড়বে।’

আরেকজন ওয়ার্ড নেতা বলেন, ‘দলের মধ্যে বিভেদ থাকলে নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে। কারো বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা দখলবাজির অভিযোগ দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। নতুন নেতৃত্ব এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ ও কঠোর হলে তৃণমূল আরও সক্রিয় হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব এসএম জাহাঙ্গীর বলেছেন, ‘সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ফ্যাসিবাদের আমলে আমরা সেভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করতে পারিনি। নির্বাচনের আট মাস পর কমিটি দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের মূল কাজ হলো, আহ্বা্য়ক কমিটির কার্যক্রমের পাশাপাশি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও কর্মিসভার মাধ্যমে যোগ্য নেতাকর্মীদের বাছাই করা। যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে দলের জন্য জীবন দিয়েছেন, জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন এবং ৫ আগস্টের পর দলের বদনাম করেননি, সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ও সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, তাদের নিয়ে আমরা সংগঠন পুনর্গঠন করব। এভাবে দলকে সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাব, ইনশাল্লাহ।’

দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। এখানে কোনো গ্রæপকে আমরা প্রাধান্য দেব না, কোনো গ্রæপকে প্রশ্রয় দেব না। কমিটি গঠনের সময় প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, একাধিক প্রার্থী থাকতে পারেন। কিন্তু এখানে কোনো গ্রæপ নেই, এখানে সবাই বিএনপির কর্মী।’

চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগমুক্ত নেতৃত্ব গঠনের বিষয়ে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সর্বপ্রথম আমাকে নিজে ভালো হতে হবে। আমি নিজে যদি ভালো হই, জগতটা ভালো, এ রকম একটা কথা আছে। আমরা নিজেরা ভালো থেকে ভালো কর্মী বাছাই করব, দলে যুক্ত করব এবং তাদের নেতৃত্ব দেব। আমরা কখনো কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের দলীয় নেতৃত্ব দেব না বা দিই না। ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে কমিটি করলে এ ধরনের সমস্যা সামনে আসবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার এবং আমাদের আহ্বায়কের ঢাকা শহরে দীর্ঘদিন রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত ৪০ বছর ধরে রাজনীতিতে থাকা আমাদের কর্মীরা পরীক্ষিত। ইনশাল্লাহ, এখানে এ ধরনের সমস্যা হবে না। দল এখন যে পর্যায়ে আছে, সেখান থেকে আমরা ভালো নেতৃত্ব বের করতে পারব।’

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কাউকে জিতিয়ে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদের নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো ভালো একজন প্রার্থী দেওয়া। সেই প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব এলাকার জনগণের। ভোটাররা যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই ভোট দেবেন। আগামী নির্বাচনেও ভোটারদের কাছে যারা জনপ্রিয়, তারাই মনোনয়ন পাবেন এবং জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হাত থাকবে না। আমাদের কাজ হলো ভালো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া।’

পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রসঙ্গে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমরা সবাইকে চিনি ও জানি। তারপরও একটি বড় কমিটি গঠন করতে গেলে সামান্যতম বিচ্যুতি হতে পারে। তবে আমরা শতভাগ সততা বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ। নির্ভুল একটি কমিটি দেওয়াই আমাদের মূল কাজ। আমরা সেটা করতে পারব বলে আশা করি। ঢাকা মহানগর উত্তরের ৫১ জনকে চেনা আমাদের জন্য খুব একটা কঠিন কিছু নয়।’

কেকে/সাশ 





আরও সংবাদ   বিষয়:  ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি   নতুন আহ্বায়ক কমিটি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close